AdvertisementAdvertisement

তীব্র দাবদাহে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড গ্রিসে উদ্ধারকাজ চলাকালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ

রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। গ্রিস, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলোতে দাবানলের লেলিহান শিখা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গ্রিসের এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত দুটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববারের এই দুর্ঘটনায় আকাশপথে সংঘর্ষের পর হেলিকপ্টার দুটি অগ্নিগোলকে পরিণত হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।

এথেন্সের উপকণ্ঠে অবস্থিত এলেফসিন সামরিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা হেলিকপ্টার দুটিতে চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দমকল বাহিনীর নিজস্ব হেলিকপ্টারগুলো সাথা অঞ্চলে অগ্নিনির্বাপণের কাজ করছিল। এ ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। গ্রিসের পোর্তো জেরমেনো অঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যা সেখানকার একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু এলাকায় পৌঁছে যাওয়ায় অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশটির পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৫০০ দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের সহায়তায় ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকে বিশেষ দল এসে যোগ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রোতোথেমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি ও বসতবাড়ি আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। গ্রিসের কেফালোনিয়া দ্বীপে ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের সন্দেহে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনএ।

ফ্রান্সের জিরোন্দ ও ভার অঞ্চলে দাবানলের তীব্রতা কিছুটা কমলেও স্পেনের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। স্পেনের কাসেরেস প্রদেশে প্রায় ৮০০ জন বাসিন্দাকে নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হলেও সেখানে এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী খরা ও উচ্চ তাপমাত্রা দাবানলের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দাবদাহের প্রভাব কেবল বনাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দানিউব নদের পানি স্তর রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই কারণে সার্বিয়া তাদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে।

দানিউবের পানি প্রবাহ ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সার্বিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী দুব্রাভকা জিয়েদোভিচ হান্দানোভিচ জানিয়েছেন, গত ছয় সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীর পানি স্তর আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগার সতর্ক করেছেন যে, আগামী পাঁচ দিন দেশটির জন্য অত্যন্ত সংকটময় হতে পারে। পানি ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে শতাধিক শহর ও গ্রামে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%