শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে হামলায় অবহেলার দায়ে সাবেক পুলিশ প্রধান ও প্রতিরক্ষা সচিবের মৃত্যুদণ্ড

শ্রীলঙ্কার ইস্টার সানডে বোমা হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা করার দায়ে দেশটির সাবেক পুলিশ প্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার কলম্বোর একটি বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিন সদস্যের বেঞ্চে ২-১ ভোটে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে। ২০১৯ সালের ভয়াবহ ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৭৯ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই শীর্ষ কর্মকর্তার আইনজীবী চামিন্দা আথুকোরালে জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে আইনজীবী দাবি করেছেন যে, অভিযুক্তদের সঙ্গে সরাসরি হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তাদের কোনো ধরনের অপরাধমূলক অভিপ্রায়ও ছিল না। এর আগে ২০২২ সালে নিম্ন আদালত এই দুই কর্মকর্তাকে খালাস দিয়েছিল, তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেই রায় বদলে দণ্ড প্রদান করা হলো।
বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন আদালতকে জানানো হয়, হামলার কিছুদিন আগে ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও দুই কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগে পৃথক এক দেওয়ানি মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২৫ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি বা তিন লাখ ৭২ হাজার ৪৬৪ ডলার প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর স্থগিতাদেশ রয়েছে, যার ফলে সাধারণত এসব দণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এই স্থগিতাদেশ বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত যারা অভিযুক্ত হয়েছে তারা মূল হোতা নয়; বরং এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে আরও গভীর কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
