মিশিগানে কমছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, অর্থনৈতিক সংকটে দোদুল্যমান ভোটারদের উদ্বেগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মিশিগানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। বাণিজ্য নীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই অঙ্গরাজ্যটিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার ‘গ্রাউন্ড জিরো’ বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু শিল্পায়ন পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সেখানকার ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশিগানে ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত নির্বাচনে তার অর্জিত ৪৯.৭৩ শতাংশ ভোটের তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক। ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড ডুলিওর মতে, ট্রাম্পের এই পড়তি জনপ্রিয়তার পেছনে মূলত অর্থনৈতিক সংকট দায়ী। সাধারণ মানুষ জাতীয় পর্যায়ে বড় বড় বিনিয়োগের খবরের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকেই তাদের জীবনের ওপর বেশি প্রভাব বিস্তারকারী বলে মনে করে।
একসময়ের শিল্পসমৃদ্ধ এই অঙ্গরাজ্যটি বিংশ শতাব্দীর আশির ও নব্বইয়ের দশকে বিশ্বায়নের প্রভাবে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের শিকার হয়। বর্তমান সরকার মিশিগানের অটোমোবাইল শিল্পের প্রধান তিন কোম্পানি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলে অর্থনীতির চাকাকে সচল করার চেষ্টা করছে। তবে এসব বড় অঙ্কের বিনিয়োগের হিসাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারছে না।
মিশিগান কেবল শিল্পোন্নত অঞ্চলই নয়, বরং কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক সংক্রান্ত নীতি অঙ্গরাজ্যটিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কর্মসংস্থান খাতেও। ফেডারেল তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মিশিগানে ২ হাজার উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান হারিয়েছে, যদিও জুন মাসে নতুন ৩ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সমীকরণে মিশিগানকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’ বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের একটি উন্মুক্ত সিনেট আসন নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটিক দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। রিপাবলিকানরা যদি এই আসনটি দখল করতে পারে, তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
মিশিগানের গুরুত্ব অনুধাবন করেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিত সেখানে সফর করছেন এবং নিজের অর্থনৈতিক নীতিকে জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। তবে সাধারণ মানুষের কাছে মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই অঙ্গরাজ্যটিতে নিজের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধার করা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
