জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান হিসেবে ভলকার তুর্ক টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১৪৪টি ভোট তার পক্ষে পড়েছে, বিপরীতে ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ১৩টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। এই জয়ের ফলে তুর্ক জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার পদের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টানা দুটি চার বছর মেয়াদী দায়িত্ব পূর্ণ করার নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে ভলকার তুর্ক বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে আলোচিত। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতার অভাবকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তার এই সোচ্চার ভূমিকার কারণে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু রাষ্ট্র তার নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে আসছে।

ভোটের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় তুর্ক গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় মন্তব্য করেন, বর্তমান সময়ের অস্থিরতা ও নৈরাজ্য নিরসনে মানবাধিকারই একমাত্র প্রতিষেধক। তিনি বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের অধিকার সুরক্ষায় নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে এই পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়াটি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ভোট প্রক্রিয়াকে তড়িঘড়ি ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করে জাতিসংঘের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেছে। মার্কিন প্রতিনিধি জেফ বার্তোস দাবি করেছেন যে, মানবাধিকার ব্যবস্থা তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে এবং তুর্কের নেতৃত্বে এই ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তুর্কের পুনর্নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে তার কার্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাবনায় আয়োজিত এই বিশেষ ভোটের মাধ্যমে আগামী ১১ই অক্টোবর থেকে তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের পথচলা শুরু হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%