স্কয়ারবোরো শোল নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকায় ফিলিপাইনের সরকারি জাহাজের ওপর চীনের কোস্টগার্ডের জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। টানা দুই দিনের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ম্যানিলা। ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বেইজিংয়ের ১২টি কোস্টগার্ড জাহাজ ও তিনটি মেরিটাইম মিলিশিয়া ভেসেল ফিলিপাইনের মৎস্য অধিদপ্তরের একটি নৌকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাত মিটারের মধ্যে চলে আসে, যা ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

বিজ্ঞাপন

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে তারিয়েলা এক বিবৃতিতে বেইজিংয়ের এহেন আচরণকে ‘পেশাদারিত্বহীন ও বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্কারবোরো শোল ফিলিপাইনি জেলেদের ঐতিহ্যের অংশ এবং কোনো বিদেশি শক্তি আইনত তাদের অধিকার খর্ব করতে পারে না। ওই সময় ফিলিপাইনের দুটি জাহাজে সরাসরি জলকামান হামলা চালানো হয় এবং আরও দুটি জাহাজকে সংঘর্ষ এড়াতে বিপজ্জনক কসরত করতে বাধ্য করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো স্থানীয় জেলেদের জ্বালানি সহায়তা প্রদান ও রুটিন টহলে নিয়োজিত ছিল।

অন্যদিকে, চীনের কোস্টগার্ডের দাবি, স্কারবোরো শোল এলাকায় ফিলিপাইনের বেশ কিছু নৌযান ‘অবৈধভাবে’ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালালে তারা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান দাবি করেছেন, তাদের পদক্ষেপ ছিল আইনানুগ ও যুক্তিসঙ্গত। তিনি ফিলিপাইনকে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার সেকেন্ড থমাস শোলে অপর এক সংঘর্ষে চীনের কোস্টগার্ডের হামলায় ফিলিপাইনের এক নৌসদস্য আহত হন। দক্ষিণ চীন সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের এই আগ্রাসী নীতি ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেইজিংয়ের এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ম্যানিলার প্রতি ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দক্ষিণ চীন সাগরের সবচেয়ে বিতর্কিত এই জলসীমায় দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে এবং উভয় রাষ্ট্রই একে অপরের রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%