পরীক্ষা জালিয়াতি ও মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ভারতের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

ভারতের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে নমনীয় হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আলোচনা শুরু হলেও আন্দোলনকারীরা তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সরকার আলোচনার জন্য এগিয়ে আসলেও তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। সংগঠনটি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য এই আন্দোলন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিরোধী দলগুলোও শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংসদের চলমান অধিবেশনে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পরীক্ষা জালিয়াতি দমনে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা শুক্রবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের কথা রয়েছে।

তবে সরকারের এই আইনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্যমতে, কেবল আইন সংশোধন যথেষ্ট নয়; বরং পুরো পরীক্ষা পদ্ধতিকে স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে হবে। কর্মীরা বলছেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে এই জাগরণ শুরু হয়েছে এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না।

বিজ্ঞাপন

নয়াদিল্লি ছাড়াও মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পাটনার মতো বড় শহরগুলোতে তীব্র বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলন দমাতে পুলিশি নিপীড়ন, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং দিল্লির মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা সত্ত্বেও দমে যাননি শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ ছাড়া তাদের ঘরে ফেরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, কারণ এটি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশ্ন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%