বগুড়ায় খাল খনন প্রকল্পের সাশ্রয়ী অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সরকারি অর্থের সাশ্রয় ও স্বচ্ছ ব্যবহারের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পের নির্ধারিত কাজগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করার পর বেঁচে যাওয়া ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া এই প্রকল্পের এমন সততা ও দায়িত্বশীলতা স্থানীয় সচেতন মহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, খাল খনন কার্যক্রমের জন্য মোট ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ১৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং পরিবেশ রক্ষার অংশ হিসেবে খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণে ৩ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয়। প্রকল্পের যাবতীয় কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়, যা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী নজির।

স্থানীয় শ্রমিক বোরহান আলী জানান, খননকাজের একটি অংশ এস্কাভেটর দিয়ে এবং বাকি অংশ স্থানীয় শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করায় কাজের গতি বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাল খননের পর কয়েকটি স্থানে পাড় ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের জমির সুরক্ষায় সরকারের কাছে বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। খাল খননের ফলে অত্র অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে কাজের পরিধি কিছুটা বাড়ানো হলেও জমির মালিকদের সম্মতির ভিত্তিতেই সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান এই উদ্যোগকে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই টেকসই প্রকল্পটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

0%
0%
0%
0%