লোহিত সাগরে হুথি হামলা অব্যাহত থাকায় ইয়েমেনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা জাতিসংঘের

লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের নতুন করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ইয়েমেনকে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে অস্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করবে এবং ইয়েমেনের জনগণের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
হুথিরা মূলত আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত। গোষ্ঠীটি বুধবার দাবি করেছে যে, সৌদি আরবের সাথে সম্পৃক্ত দুটি তেল ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’-তে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। গত ২০ জুলাই সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম আক্রমণ। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন, তাদের আরোপিত অবরোধ অমান্য করার কারণে এই জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইয়েমেনে প্রায় ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে আদেনে সরিয়ে দেয় এবং দেশটিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ শুরু হয়। যদিও ২০২২ সাল থেকে দেশটিতে বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি বজায় ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক এই নতুন উত্তজনা আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই অস্থিরতার ফলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অন্তত পাঁচটি ট্যাংকার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ইয়েমেনের ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন এবং ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের তেহরানের প্রক্সি হিসেবে আখ্যায়িত করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো ধরনের হামলার জন্য ইরান ও হুথিদের বড় ধরনের সামরিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
শান্তির পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ। তিনি সকল পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। জাতিসংঘের এই দূত জোর দিয়ে বলেন, ইয়েমেনে একটি আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান অর্জিত হলে তা কেবল ওই দেশেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা