ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে নতুন একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২১৪-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রতিনিধি পরিষদের চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সংকুচিত করার এই প্রক্রিয়ায় সমর্থন দিলেন। একই সঙ্গে সিনেটেও অনুরূপ একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ বা যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত রেজোলিউশন পাসের তোড়জোড় চলছে বলে জানিয়েছেন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার একমাত্র এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা না হলেও, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের কর্মকাণ্ড মার্কিন নিরাপত্তার জন্য আসন্ন হুমকি তৈরি করেছে। যদিও দেশটির অনেক সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞই প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স আইন অনুযায়ী, সৈন্য মোতায়েনের ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিল মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ার অজুহাতে নতুন করে অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনীতাকে এড়িয়ে গেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি মূলত একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এটি ‘কনকারেন্ট রেজোলিউশন’ হওয়ায় তা অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি এটি যদি ‘জয়েন্ট রেজোলিউশন’ হিসেবে পাস হতো এবং প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানো হতো, তবুও ট্রাম্প তাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন। এমন ভেটো বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন, যা বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন। এর আগেও গত জুন মাসে কংগ্রেস যুদ্ধ শুরুর আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদনের আহ্বান জানিয়ে একই ধরনের একটি প্রস্তাব পাস করেছিল, কিন্তু তা কার্যকর কোনো ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান গত ১২ দিন ধরে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, কারণ ট্রাম্প বারবার ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা ও স্থল অভিযানের হুমকি দিচ্ছেন। হাউজ ফ্লোরে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধি প্রমিলা জয়পাল বলেন, এই ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেস যুদ্ধ পরিচালনার নিজস্ব কর্তৃত্ব পুনরায় নিশ্চিত করতে চায়। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটা অপরিহার্য। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির প্রতি আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার বার্তা পৌঁছাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেও, সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্রটি কিছুটা স্ববিরোধী। প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইট-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জানোভস্কি বলেন, সাম্প্রতিক ভোটাভুটি প্রমাণ করেছে যে সাধারণ মানুষ কোনো অবৈধ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। অথচ আইনপ্রণেতারা গত মঙ্গলবার ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা বিল পাস করেছেন, যার মধ্যে যুদ্ধের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস যদি বাস্তবিক অর্থেই এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়, তবে তাদের যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধের সাহস দেখাতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%