বিএনপির উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা

দুই দশকের দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়ে বিএনপি তাদের প্রথম বাজেটে এক উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছে। জনগণের প্রত্যাশার পারদ স্পর্শ করতে অর্থমন্ত্রী যে বিশাল আকারের বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাতে সব মহলের স্বার্থের সমন্বয় ঘটানোর পাশাপাশি কর কাঠামোর ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ছাড়। জনকল্যাণমুখী এই পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তির বারতা নিয়ে এলেও, প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র সংশয় দানা বেঁধেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বিশাল অংকের বাজেট বাস্তবায়নের মূল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা। বিশাল এই ব্যয়ভার মেটাতে সরকার যে পরিমাণ কর আদায়ের পরিকল্পনা করেছে, তা বাস্তবে রূপদান করা দুরূহ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ায় একদিকে রাজস্ব সংগ্রহের পথ সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজস্ব ঘাটতির বিশাল এই শূন্যস্থান পূরণে অর্থমন্ত্রী মূলত বৈদেশিক ঋণের ওপর বিশেষ নির্ভরতা দেখিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়েও ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ কাটছে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটের রূপরেখা এবং প্রকৃত বাস্তবায়নের মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।