পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রতিবাদে দিল্লিতে উত্তাল আন্দোলন, দোষীদের শাস্তিতে বিশেষ আদালতের ঘোষণা মোদির

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। দেশজুড়ে চলমান এই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মুখে অবশেষে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, তরুণের ভবিষ্যৎ এবং কল্যাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। যারা তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির ব্যানারে আন্দোলনরত তরুণরা রাজধানী দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট দখলে নিয়ে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, সম্প্রতি পরীক্ষার বিপর্যয়ের পর আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া অন্তত ১২ শিক্ষার্থীর প্রতিটি পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবকে ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ভারতে আদালত বা আইনের অভাব নেই, বরং সমস্যাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনার। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অযোগ্যতার কারণেই বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। এদিকে, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার জন্য বাইরে থেকে উস্কানিদাতা ও দুর্বৃত্তদের পাঠানো হচ্ছে।

দিল্লির জনপথ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পাটনার মতো বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিপেটার মুখে পড়লেও তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে নয়, বরং উচ্চ বেকারত্ব এবং সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%