শি জিনপিংয়ের আসন্ন সফর সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা নিরসনে বৈঠকে রুবিও ও ওয়াং ই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন সফরকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাকে উভয় পক্ষই ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই দেশ উচ্চপর্যায়ের পরবর্তী সফর ও যোগাযোগের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে সম্মত হয়েছে। তবে ওয়াং ই স্পষ্ট করেছেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য নিরসনে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বেইজিংয়ের মূল স্বার্থকে সম্মান জানাতে হবে। রুবিও নিজেও স্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে যা নিকট ভবিষ্যতে বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল, তবে তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।

ম্যানিলায় এই বৈঠকের মাত্র দুই দিন আগেই দক্ষিণ চীন সাগরের সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় চীন ও ফিলিপাইনের নৌযানের মধ্যে উত্তপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজন ফিলিপিনো নাবিক আহত হয়েছেন এবং উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ তুলেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত কারও জন্যই কল্যাণকর নয়। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফিলিপাইনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনে তারা ম্যানিলার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আধিপত্য বিস্তার ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে রুবিও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভবিষ্যৎ এই অঞ্চলেই নির্ধারিত হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ অর্থ বছরে ফিলিপাইনের জন্য ১০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে প্যালাওয়ান দ্বীপে উপকূলরক্ষী বাহিনীর জেটি সম্প্রসারণের জন্য আরও ৯০ লক্ষ ডলার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

বিজ্ঞাপন

আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা নিয়েও আলোচনা করেন। তেহরানের বিরুদ্ধে আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক না হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিজেদের ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের উপায় নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথাও নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%