ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন মিলিব্যান্ড ও স্ট্রিটিংয়ের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যান্ডি বার্নহাম দ্রুত রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। গত এক দশকে দেশটির সপ্তম সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বার্নহাম জানিয়েছেন, নেতৃত্বের এই ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে তিনি ত্যক্ত-বিরক্ত। সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি কিয়ার স্টারমারের অনুগত বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন, যার মধ্যে সাবেক চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি অন্যতম। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের আগে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেছেন।
বার্নহামের নতুন মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এড মিলিব্যান্ড এবং প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই দুটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় তাদের নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মিলিব্যান্ড অতীতে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে আলোচনায় এসেছিলেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা খাতে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা স্ট্রিটিংয়ের অবস্থানও ইসরায়েল ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণকারী এড মিলিব্যান্ড ২০০৫ সাল থেকে ডনকাস্টার নর্থের সংসদ সদস্য। গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা মিলিব্যান্ড ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লেবার পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা প্রতিহত করতে তার ভূমিকা ব্রিটিশ রাজনীতিতে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মিলিব্যান্ডের এই নিয়োগ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পরিবেশ ও জ্বালানি নীতিতে মিলিব্যান্ডের উদ্যোগগুলোও বেশ বিতর্কিত। ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যকে কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার লক্ষ্য এবং উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস উত্তোলনের লাইসেন্স স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি বার্নহামের অনেক মিত্রের কাছেই চক্ষুশূল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট যুক্তরাজ্যের এই লক্ষ্যকে ‘অর্থহীন’ এবং ‘অশুভ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নিয়োগ সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান রিচার্ড ড্যানাট মন্তব্য করেছেন যে, প্রতিরক্ষা বিষয়ে স্ট্রিটিংয়ের নূন্যতম জ্ঞানও নেই। দীর্ঘকাল ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল’-এর সদস্য হিসেবে পরিচিত স্ট্রিটিং গাজা সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের কঠোর সমর্থক ছিলেন। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে তিনি ইসরায়েলি কার্যক্রমকে ‘অসহনীয়’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে সমালোচনা শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, স্ট্রিটিংয়ের নিয়োগের বিষয়টি যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলোর জন্য একটি হতাশাজনক বার্তা। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ‘পালান্টিয়ার’-এর প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই দলবদল এবং বিতর্কিত নিয়োগগুলো যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা