ইরানের সাথে যুদ্ধে সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়, আরও ৭০ বিলিয়ন ডলার দাবি পেন্টাগনের

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসায় নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই সংঘাত অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির কাছে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি তহবিল চেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সিনেটের ওই বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ব্যয় এবং প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতার জন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। ডেমোক্র্যাট সিনেটর গারি পিটারস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ জয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ছাড়াই সরকার জনগণের কাছ থেকে চেক লিখে নিচ্ছে, যা অনেকটা ফাঁকা চেকের মতো।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে জুনের চুক্তি ভেঙে পড়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই টানা ১১ রাত ধরে ইরানে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এই দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের ফলে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে প্রচুর শক্তিশালী গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখন তলানিতে ঠেকেছে। প্যাট্রিয়টস, থাডস, স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলসহ অন্তত চারটি প্রধান অস্ত্রের মজুদ যুদ্ধের আগের তুলনায় ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এসব অস্ত্র পুনরায় সংগ্রহের জন্য কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট হতে পারে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। হেগসেথ এই বিপুল ব্যয়কে ‘প্রজন্মের সেরা বিনিয়োগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও কংগ্রেস যদি এই অর্থ বরাদ্দ না দেয়, তবে তা মার্কিন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও বিশ্বব্যাপী সামরিক কার্যক্রমকে চরম সংকটে ফেলবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এই যুদ্ধগুলো মূলত ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এর প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষত সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%