দিল্লিতে পুলিশি বাধার মুখে পদযাত্রা স্থগিত করল ককরোচ পার্টি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

ভারতের দিল্লিতে শিক্ষাখাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে চলমান ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ বা আরশোলা আন্দোলনের নেতারা রাজপথে আর কোনো পদযাত্রা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে ১০ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীর মিছিলে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও সহিংসতার পর সমর্থকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সোমবারের কর্মসূচিতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের ফলে প্রায় ১৫০ জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার এই আন্দোলনের সূত্রপাত মূলত মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে। এই বিপর্যয়ের ফলে ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হয়েছে এবং হতাশায় অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। সিজেপি নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি রুপি বা ১ লাখ ৪ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে এবং শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তিন সপ্তাহ ধরে আমরণ অনশনে থাকা অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক ও জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও দানা বেঁধে ওঠে। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্ত্রীকে তার স্বামীকে পছন্দমতো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছেন, যা তার ‘বেআইনি আটকের’ অভিযোগকে জোরালো করেছে। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ ভারতে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতের কণ্ঠরোধের বহিঃপ্রকাশ।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে ৬০ জন আন্দোলনকারী এবং ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে পুলিশের হামলার দৃশ্য দৃশ্যমান হলেও আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে কোনো সহিংসতার প্রমাণ মেলেনি। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় ২০০ জন আন্দোলনকারী বৃষ্টির মধ্যেও জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় এলাকায় আধা সামরিক বাহিনীর টহল ও ব্যারিকেড ছিল অঘোষিত সাধারণ দৃশ্য।

বিজ্ঞাপন

এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ইন্টারনেটে সরকারের হাস্যরসাত্মক মিম তৈরির মাধ্যমে, যা দ্রুত লাখ লাখ মানুষের সমর্থন লাভ করে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের ‘আরশোলা’র সাথে তুলনা করলে প্রতিবাদকারীরা সেই অপমানকে নিজেদের শক্তি বানিয়ে আন্দোলনের নামকরণ করেন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মন্তব্য করেছেন যে, আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে উত্তেজনা প্রশমন প্রয়োজন। তবুও, পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সিজেপির কর্মীরা তাদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%