ইরানে টানা দশম রাতের মতো মার্কিন হামলা পাল্টা জবাবের হুঙ্কারে উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় টানা দশম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ-ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার জিএমটি সময় রাত ১টায় এই হামলা পরিচালিত হয়। ইরানজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও বন্দর লেংগেহ অন্যতম। এছাড়া সিরাজ শহরের বিভিন্ন স্থানেও শত্রুপক্ষের হামলার শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি নিশ্চিত করেছে। তবে ইসফাহান প্রদেশে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি পাল্টা আঘাত হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সম্পদের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, বাহরাইনের আল-মুহাররাক ও আল-রিফা এলাকায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হ্যাঙ্গার ও টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

সংঘাতের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালীতেও। আইআরজিসি জানিয়েছে, ঐ এলাকায় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, মার্কিন কর্মকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো ধরনের জ্বালানি তেল বা পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

যদিও মাঠপর্যায়ে লড়াই তীব্র হচ্ছে, তবে পর্দার আড়ালে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ বজায় থাকলেও সংকটের সমাধানে আলোচনার দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে হরমুজ প্রণালীসহ পুরো অঞ্চলে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%