দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি পাইলট জোন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের সংশয় ও তীব্র ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে পরিচিত এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ গ্রামে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ফুরুন ও গান্দুরিয়ার মতো গ্রামগুলোর বাসিন্দারা এবং লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো দাবি করছে, এসব এলাকা কখনোই ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে ছিল না।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা। অথচ গত মার্চ থেকে চলা ভয়াবহ সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল এখনো ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের আগে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, দখলমুক্ত করার নামে ইসরায়েল মূলত এমন সব এলাকাকে নিজেদের অর্জন হিসেবে দেখাচ্ছে, যেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি কখনোই ছিল না।

ফুরুন ও গান্দুরিয়া গ্রামের পরিস্থিতি যেন এক গভীর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। একদিকে ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে স্থানীয়দের টিকে থাকার লড়াই। ফুরুন গ্রামের বাসিন্দা আবু আলি মিকদাদ যেমনটি বলছিলেন, বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার যন্ত্রণায় তিনি ক্লান্ত। ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা নিজের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি জানান, বোমা হামলার ঝুঁকি থাকলেও তিনি এখানেই ফিরে আসা এবং পুনর্নির্মাণের পথ বেছে নিয়েছেন। তার মতো অনেক পরিবারই এখন লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিকে সান্ত্বনার জায়গা হিসেবে দেখছে।

তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ ও সংশয় স্পষ্ট। গান্দুরিয়া গ্রাম পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ নাদেরের তথ্যমতে, গ্রামটির ২৬০টি বসতবাড়ির মধ্যে ২৫০টিই সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। নাদেরের মতে, এসব এলাকাকে পাইলট জোনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা ইসরায়েলের এক ধরনের চালাকি, যার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এমনকি লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলোও নিশ্চিত করেছে যে, উল্লিখিত গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি ছিল না।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈঠকে ‘রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব’ সুসংহত করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একদিকে লেবানন সরকার তাদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর অনড় অবস্থান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর নজরদারি—সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবাননের ভবিষ্যৎ এখনো এক অনিশ্চিত অধ্যায়ে আটকে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%