সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ও নতুন আট কর্মসূচির উদ্যোগ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পরিধি ও বরাদ্দ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করছে সরকার। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নথিপত্র অনুযায়ী, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’র মতো আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন বাজেটে প্রথমবারের মতো আটটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ফ্যামিলি কার্ড। এর আওতায় নারীপ্রধান ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে ১৬ হাজার ৫১৩ জন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

নতুন কর্মসূচির তালিকায় আরও থাকছে ৪২ লাখ ৫০ হাজার উপকারভোগীর জন্য কৃষক কার্ড এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী। এছাড়া কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা, ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং বা ভিজিএফ, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তার বৃহত্তর কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যাও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, জটিল রোগাক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের সামগ্রিক বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এ প্রসঙ্গে জানান, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সম্প্রসারণ জরুরি হলেও উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দ্বৈততা দূর করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। ২০১৫ সালের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের যথাযথ বাস্তবায়নই এই খাতের সুফল নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%