গায়ানায় ভয়াবহ ফেরিডুবিতে ২৭ জনের প্রাণহানি, ক্যাপ্টেনসহ আটক কলাকুশলী

গায়ানার উপকূলে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাজধানী জর্জটাউন থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পোর্ট কাইতুমায় যাওয়ার পথে শনিবার রাতে এমভি বারিমা নামক ফেরিটি উল্টে গিয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হয়। জাহাজটিতে ১৭৯ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এখনো ৮৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গায়ানার গণপূর্ত মন্ত্রী হুয়ান এডগিল এই ঘটনাকে গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল যে জাহাজটিতে ১১৬ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু ছিলেন। তবে উদ্ধার অভিযান চলাকালে এমন ৩২ জন যাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নাম ফেরির যাত্রী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এই তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ফেরির ক্যাপ্টেনসহ অন্তত দুজন ক্রু সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে। মাদক পরীক্ষায় তাদের শরীরে গাঁজার উপস্থিতি পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী হুয়ান এডগিল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কর্মকালীন সময়ে কোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। বিশেষ করে ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় পজিটিভ আসা অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনে থাকা অবহেলা ও গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ফেরি টার্মিনালগুলোর বিরুদ্ধে যাত্রী তালিকায় নাম না লিখে গোপনে বাড়তি যাত্রী বহনের অভিযোগ রয়েছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মন্ত্রী হুয়ান এডগিল একটি অপরাধমূলক কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেঁচে ফেরা যাত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উপকূলীয় এলাকায় জোরদার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%