ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৫ হাজার, আইএমএফের ৩৪ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার সহায়তা মঞ্জুর

ভেনিজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলে গত মাসে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় মৃতের এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ শুক্রবার জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে লা গুয়াইরা উপকূলীয় অঞ্চলে। এছাড়া ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হলেও তাদের সিংহভাগই বর্তমানে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ জুন এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের লা গুয়াইরা অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং অসংখ্য বহুতল ভবন এই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ বারের বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে ভেনিজুয়েলা ৩৪ কোটি ৬০ লক্ষ ডলারের জরুরি অর্থ সহায়তা পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ দেশটির সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করে। এর আগে ২০১৯ সালে মাদুরো সরকারের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের জেরে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

এদিকে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজে সরকারি গাফিলতি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সেনা মোতায়েনে বিলম্ব, জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব এবং কমান্ড কাঠামোর অস্পষ্টতার কারণে বিপর্যয়ের প্রথম কয়েক দিন ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, সরকার দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে এবং অব্যবস্থাপনার এসব অভিযোগ কেবল ভিত্তিহীন অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%