ভারতে দুর্নীতিবিরোধী অনশনরত সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে হাসপাতাল স্থানান্তর নিয়ে উত্তজনা

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে টানা ২০ দিন অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং হাইকোর্টের নির্দেশে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেই ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হিমালয় অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের রূপকার হিসেবে সুপরিচিত প্রকৌশলী সোনম ওয়াংচুকের এই অনশন ঘিরে ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও আত্মঘাতী হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামক এই আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণার মধ্য দিয়ে।

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীকে পুনরায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানসিক চাপে একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুক হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের ইতিহাসে ছোট ছোট আন্দোলনই বড় বড় সরকারকে নুইয়ে দিয়েছে, আর এবারের লড়াইটি শিক্ষার মান রক্ষার জন্য। সিজেপি নেতৃবৃন্দ ওয়াংচুকের এই স্থানান্তরকে সরকারি ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় ভুল আখ্যা দিয়ে নিজেরাও আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতালি জে আংমো জানান, তার স্বামীর শারীরিক অবস্থা দুর্বল হলেও তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় আছেন। পরিবারের সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের জোরপূর্বক চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলেও তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির প্রতিবাদস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার ভারতের পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর দিনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তার স্বার্থে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%