ইংলিশ চ্যানেলে রুশ ছায়া নৌবহরের তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল ব্রিটেন

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিচালনার অর্থায়নে বড় ধরনের আঘাত হানতে প্রথমবারের মতো ইংলিশ চ্যানেলে সরাসরি অভিযান চালিয়েছে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী। রবিবার ভোরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্মিরটোস’ নামের ট্যাংকারটি কামেরুনের পতাকাবাহী এবং এটি ৭ লাখ ব্যারেল রুশ তেল পরিবহন করছিল। রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগা থেকে ছেড়ে আসা এই জাহাজটি মিশরের পোর্ট সাইদের দিকে যাচ্ছিল। ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ও রাজকীয় নৌবাহিনীর কমান্ডোরা হেলিকপ্টার থেকে রোপের মাধ্যমে জাহাজটিতে অবতরণ করে এবং ছয় ঘণ্টা দীর্ঘ অভিযানের পর সেটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অভিযানের সময় জাহাজটিতে ২৪ জন জর্জিয়ান ও ভারতীয় নাবিক ছিলেন। বর্তমানে জাহাজটি ডরসেট উপকূলের কাছে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। ব্রিটিশ এই অভিযানের পরপরই ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমরত অন্তত ছয়টি ট্যাংকার নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করে সরে যায়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের বিরুদ্ধে এটি দেশটির প্রথম কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনের জন্য শত শত পুরনো ট্যাংকার ব্যবহার করা হচ্ছে। হংকংভিত্তিক ঝাও ইয়াও শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন এই জাহাজটির ব্যবস্থাপনা তামিলনাড়ুর একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হতো।
এই অভিযানের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার তেল বহরের বিরুদ্ধে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আলেকজান্ডার লর্ড মনে করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য খরচ ও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুললেও, সামগ্রিক রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এড়াতে রাশিয়া প্রতিনিয়ত তাদের জাহাজের নাম ও মালিকানা পরিবর্তন করে আসছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে আটক এই ট্যাংকারটি এখন সাউথ কোস্টে নিয়ে নজরদারিতে রাখা হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযান নিয়ে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ রয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা