যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, মোকাবিলা করবেন বহুমুখী সংকট

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি চূড়ান্তভাবে এগিয়ে গেলেন। আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে স্থলাভিষিক্ত করে বার্নহাম দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্টির বিশেষ সম্মেলনে দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি দেশবাসীকে নতুন করে আশার আলো দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নহামের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড় জমে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সংকট, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ এবং দেশজুড়ে দক্ষিণপন্থী পপুলিস্ট রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা। স্টারমারের শাসনামলে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের অভাব ও জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন নেতা জানান, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনার পথে হাঁটবেন।
নিজের ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা অনুকরণ না করে লেবার পার্টির নিজস্ব আদর্শ ও স্বকীয়তায় অটল থাকবেন। দলীয় বিভেদ দূর করতে তিনি একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে সব পক্ষের অভিজ্ঞতা ও অবদানের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়াও আবাসন, জ্বালানি ও পানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবাগুলো সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে কাজ করা বার্নহাম ব্রিটিশ রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ও হোয়াইটহলের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা কমিয়ে তা স্থানীয় পর্যায়ে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছেন। আধুনিক ব্রিটেনের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ। তার দাবি, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে ক্ষমতার উৎস হতে হবে সাধারণ মানুষের আবাসস্থল, যেখানে রাজনীতির সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ শুরু করবেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
