যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, নিহত পাঁচ

গাজা উপত্যকায় গত অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার গাজা সিটির উত্তর দিকে তুফফাহ এলাকায় বিমান হামলায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে বোমা হামলা চালানো হলে আরও একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া পূর্ব গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ট্যাংক গোলাবর্ষণ ও খান ইউনুসে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বাস্তবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গত অক্টোবর মাসে এই সমঝোতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে, কারণ ইসরায়েল অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে ত্রাণ সহায়তার প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজন জিবরিল খাত্তাব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, গাজার মানুষের কাছে এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি বিভ্রান্তি মাত্র। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গাজার কোনো প্রান্তই এখন আর নিরাপদ নয় এবং এই যুদ্ধবিরতির কোনো অস্তিত্ব বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। ইতিমধ্যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গাজার পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলি নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে নেতানিয়াহু গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বাড়াতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

নেতানিয়াহুর শাসনামলে গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, অথচ তার যুদ্ধনীতি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কৌশলগতভাবে তেহরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো শক্তিশালী করেছে এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিধ্বস্ত গাজা পুনর্নির্মাণে অন্তত ১০ বছর সময় এবং ৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। তবে ইসরায়েলি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসরায়েলের কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতাই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো রূপরেখায় সমর্থন না জানানোয়, এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%