ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৩৫, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নতুন করে শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তেহরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত নয়টায় শুরু হওয়া ৯০ মিনিটের এই অভিযানে বন্দর আব্বাস, গ্রেটার টুনব দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। হামলার মুখে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেমনান, রাস্ক, খোন্দাব, খোররামাবাদ এবং চাবাহারসহ দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেমনানের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরের প্রধান ভবনে মার্কিন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে আল-জাজিরা। এদিকে, খোজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।

ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনীও আটটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে, তবে আইআরজিসি দাবি করেছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আল-আজরাক ঘাঁটির মার্কিন কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উত্তেজনা প্রশমনে এপ্রিল মাসে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং আলোচনা শুরুর সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ অমান্য করে ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করায় কুরাসাও পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, এমটি বেলমা নামের ওই বাণিজ্যিক জাহাজটিকে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন নিয়ে দুই দেশের এই সংঘাত আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%