মরক্কোয় ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় বাড়ছে সাংবাদিক ও র‍্যাপার গ্রেপ্তার ঘিরে উদ্বেগ

মরক্কোতে সরকারবিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের অংশ হিসেবে সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর ধরপাকড় তীব্রতর হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক আলি এমরাবেতকে মানহানির অভিযোগে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্পেন থেকে তানজিয়ার বিমানবন্দরে অবতরণের পর রবিবার ৬৬ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর তীব্র চাপের মুখে বুধবার তাকে মুক্তি দেয় মরক্কোর কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

মুক্তির পর আলি এমরাবেত মন্তব্য করেছেন যে, তিনি কেবল সাংবাদিকতার চর্চা করছেন, কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা মানহানি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অপমান করার অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি। তিনি ভবিষ্যতে দেশত্যাগ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এর আগেও ২০০৩ সালে রাজাকে অপমানের অভিযোগে তিনি কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন এবং দীর্ঘ এক দশক সাংবাদিকতা থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন।

এদিকে সাংবাদিক এমরাবেতের মুক্তির পাশাপাশি কাসাব্লাঙ্কায় র‍্যাপার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহেদি এল ইউবির বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আইনজীবীদের ধর্মঘটের কারণে কোনো আইনি প্রতিনিধি ছাড়াই বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাসরত এই শিল্পীকে সোমবার রাতে কাসাব্লাঙ্কায় আটকের পর থেকেই তার সমর্থকরা সরব হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, মেহেদির গানে রাজনৈতিক বিষয়বস্তু এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সরব উপস্থিতিই এই গ্রেপ্তারের মূল কারণ।

গত বছর মরক্কোর তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক বিক্ষোভের পর থেকে সরকারবিরোধী সমালোচকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন নাটকীয়ভাবে বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অ্যাসোসিয়েশন অফ মাগরেবি ওয়ার্কার্স ইন ফ্রান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার যেভাবে ভিন্নমত দমনের পথে হাঁটছে, তা মরক্কোর শাসনব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%