ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার তলানিতে, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার সংকটে ওয়াশিংটন

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত সংঘাতের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন তাদের মজুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তত চারটি সমরাস্ত্রের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে পেন্সিলভেনিয়ার কার্লাইলে অবস্থিত ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সেখানে তিনি মার্কিন সামরিক খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন করতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারের এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীনসহ অন্য কোনো বড় শক্তির সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
গত বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে রূপ নেয়। এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে অনুমোদনহীন নৌযান চলাচলের দায়ে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালালে ওয়াশিংটন নতুন করে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়। এতে করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের অজুহাতে গত চার রাত ধরে রেললাইন ও সেতুর মতো অবকাঠামোতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
নতুন এই সংঘর্ষের ফলে ইরানে সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত এক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানো নিষিদ্ধ হলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে না বসলে তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন লকহিড মার্টিন, বোয়িং এবং রেথিয়নের মতো শীর্ষ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। জুনে ট্রাম্প ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ স্বাক্ষর করে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জাপান ও সুইজারল্যান্ডের মতো মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে উন্নত সমরাস্ত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা