ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ অভিযান

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলেও মহাকাশ গবেষণায় বিরল সহযোগিতার নজির স্থাপন করে কাজাখস্তান থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একটি যৌথ মিশন। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে মঙ্গলবার সকালে সয়ুজ এমএস-২৯ মহাকাশযানটি সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হয়। এই মিশনে নভোচারী হিসেবে রয়েছেন রাশিয়ার পিয়োত্র দুব্রভ ও আনা কিকিনা এবং নাসার প্রতিনিধি অনিল মেনন।
মহাকাশযানটি ইতোমধ্যে কক্ষপথে প্রবেশ করেছে এবং গ্রিনিচ মান সময় ১৭:৫৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নোঙর করার কথা রয়েছে। এই ত্রিদেশীয় অভিযাত্রী দল সেখানে আট মাস অবস্থান করবেন। মিশনে থাকা নভোচারীদের মধ্যে অনিল মেননের জন্য এটি প্রথম মহাকাশ অভিযান হলেও, দুব্রভ ও কিকিনার জন্য এটি দ্বিতীয়বারের মতো মহাকাশে যাত্রা।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে বাইকোনুরে উপস্থিত ছিলেন, যা গত আট বছরের মধ্যে কোনো নাসার প্রধানের প্রথম সফর। উৎক্ষেপণের আগে আইজ্যাকম্যান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি বাকানভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আইজ্যাকম্যান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যৌথ প্রস্তুতির প্রশংসা করে বলেন, সম্মিলিত এই প্রয়াস সংশ্লিষ্ট সবার পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।
মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর নতুন এই সদস্যরা সেখানে অবস্থানরত জেসিকা মেইর, জ্যাক হ্যাথওয়ে, ক্রিস উইলিয়ামস, সোফি আডিনো, সের্গেই কুদ-সভেরচকভ, সের্গেই মিকায়েভ এবং আন্দ্রে ফেদায়েভের সঙ্গে যোগ দেবেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় চরম প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও, পরবর্তী সময়ে মহাকাশ গবেষণায় দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব চলমান রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর সম্পর্ক অনেকটা শীতল হলেও মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রম সচল রাখতে দুই দেশ এখনো একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
তবে মহাকাশ গবেষণার বৃহত্তর পরিসরে বড় ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নাসার আর্টেমিস চন্দ্রাভিযান প্রকল্পে রাশিয়ার সম্পৃক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের আমদানির জন্য চীনের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রসকসমস নিজস্ব চন্দ্রাভিযানের জন্য চীনের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতার পথ খুঁজছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
