সামরিক সম্পর্ক থেকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথে ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র

ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামরিক বলয় থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন যুগে পদার্পণ করছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির বৈঠকে এই নতুন রূপরেখার প্রতিফলন ঘটেছে। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং ইরাকের তেল উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
সাক্ষাৎ শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরাকি প্রধানমন্ত্রীকে নতুন যুগের ‘চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প জানান, ইরাকের বিপুল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণ করবে। এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশেই প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আল-জাইদি জানান, বর্তমান ওয়াশিংটন সফরটি গতানুগতিক কোনো কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনালগ্ন। তিনি আরও ঘোষণা করেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাকে অবস্থানরত অবশিষ্ট মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটি ত্যাগ করবে। একই সময়ের মধ্যে ইরাকে সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন আধা-সামরিক গোষ্ঠীর প্রভাব ও আধিপত্য রাষ্ট্র পরিচালনার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক পটভূমিতে নবাগত ব্যবসায়ী আল-জাইদি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা সফল করা তার জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।
উল্লেখ্য, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ আল-জাইদির এই সফর ও তার ফলাফলের বিরুদ্ধে আগেই অনীহা প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাব ইরাকের অর্থনীতির ওপরও পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকের দৈনিক প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল খনিজ জ্বালানি রপ্তানির ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আইএসআইএল-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিধ্বস্ত ইরাকের অর্থনীতি পুনর্গঠনে তেল উৎপাদন কোটা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন আল-জাইদি। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূর করতে এই নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা ইরাকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা