AdvertisementAdvertisement

আজভ সাগরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ১১ জাহাজ ক্ষতিগ্রস্তঃ শস্য পরিবহনে বিকল্প পথের খোঁজে মস্কো

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আজভ সাগরে রাশিয়ার ১১টি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই অতর্কিত হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে পাঁচটি ট্যাংকার, পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং একটি টাগবোট রয়েছে। গত নয় দিনে ইউক্রেনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার নৌযানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬টিতে। ইউক্রেনীয় সামরিক কমান্ডার রবার্ট ব্রভদি টেলিগ্রামে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাশিয়া তাদের শস্য পরিবহনের জন্য বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মস্কো দাবি করেছে, আজভ সাগরের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ বা রপ্তানি সক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তবে জ্বালানি তেল ও শস্য পরিবহনের প্রধান পথগুলোতে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা রাশিয়ার লজিস্টিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত রাতে ইউক্রেনের ২৮৮টি ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ধ্বংস হওয়া ড্রোনের টুকরো পড়ে বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ক্রাসনোদার অঞ্চলের আফিপস্কি তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাশকোর্তোস্তানের সালাভাত শহরে অবস্থিত একটি শিল্পাঞ্চলেও ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হেনেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে রাশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকটের কারণে মস্কো ইতিমধ্যে কিছু জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পালটা জবাব দিচ্ছে; দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, গত রাতে রাশিয়ার নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০৮টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা।

পালটা আক্রমণে রাশিয়া কিয়েভ, ওদেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর জ্বালানি গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক জানিয়েছেন, ওদেসা বন্দরের অদূরে একটি বেসামরিক নৌযানে রাশিয়ার হামলা চললেও এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সংঘাতের এই চরম পর্যায়ে উভয় দেশই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%