দখলকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে ইসরায়েলি বাণিজ্য সীমিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যালোচনা শুরু

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে এবং অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার লক্ষ্যে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা, উচ্চ শুল্ক আরোপ কিংবা কঠোর কোনো বাণিজ্য বিধিনিষেধের মতো সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য এবং তা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথকে দিন দিন রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় কমিশন একটি গোপনীয় নথির মাধ্যমে তিনটি ভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব করেছে, তবে এ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ কাটেনি। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ২৭ সদস্যের এই জোটের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের বিভাজন থাকায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বরাবরই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সোমবারের বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও, প্রস্তাবিত কঠোর পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সমর্থনের মাত্রা যাচাই করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফিলিস্তিন ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে ৮টি নতুন বসতি স্থাপন করা হতো, সেখানে ২০২৩ সালে তা ৩২টিতে এবং ২০২৪ সালে ৬২টিতে উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬টিতে। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম বাদে অধিকৃত এই অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা অ্যাকলেড সতর্ক করেছে যে, গত এক দশকে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকে ২০২৬ সাল সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক হামলা, ফসলি জমি দখল, গাছ কেটে ফেলা এবং কৃষি সরঞ্জাম চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনায় নিযুক্ত গবেষক নাসের খদুরের মতে, এই অস্থিতিশীলতা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যেই স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ নিজস্ব উদ্যোগে বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন এই কঠোর পদক্ষেপগুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে জার্মানি ও ইতালির মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। যদিও গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক উপদেষ্টা মতামতে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে এই ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল, তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার ইউরোপের এমন উদ্যোগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%