দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিচ ম্যাককনেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। ৮৪ বছর বয়সী কেন্টাকির এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, একটি দুর্ঘটনায় পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেই সময় তিনি কিছুক্ষণ অচেতন ছিলেন বলেও এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ম্যাককনেল জানান, তিনি মৃদু নিউমোনিয়ার চিকিৎসাও গ্রহণ করেছেন। তবে কোনো হাড় ভাঙা বা মস্তিষ্কে আঘাতের মতো গুরুতর কোনো সমস্যা তার হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা টিউমার বা রক্তক্ষরণের মতো আশঙ্কাজনক কোনো শারীরিক জটিলতা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক প্রয়াণ এবং ম্যাককনেলের অনুপস্থিতিতে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উচ্চকক্ষে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫১টিতে নেমে এসেছে, বিপরীতে ডেমোক্রেটিক ককাসের রয়েছে ৪৭টি আসন। এই সমীকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে খুব সামান্য তথ্য প্রকাশ করায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি কেন্টাকির ডেমোক্রেটিক গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে চিঠি লিখে ম্যাককনেলকে তার শারীরিক অবস্থা স্বচ্ছভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই জল্পনা নিরসনে স্ত্রী এলেন চাওয়ের সাথে হাসিখুশি একটি ছবি দিয়ে তিনি জানান, সিনেটের কাজ পরিচালনায় তিনি এখনো তার কর্মীদের সাথে সমন্বয় বজায় রাখছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন মিচ ম্যাককনেল। তার উত্তরসূরি হিসেবে রিপাবলিকান পার্টি অ্যান্ডি বারকে এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি চার্লস বুকারকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে প্রবীণ এই সিনেটর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, কেন্টাকির জনগণের জন্য তার কিছু অসম্পূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলো শেষ করার মানসিক শক্তি তার এখনো অটুট।
উল্লেখ্য যে, শৈশবে পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চলাফেরায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। কংগ্রেসের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, তার পোলিও-পরবর্তী শারীরিক অবস্থার কারণে গত কয়েক বছরে তিনি বেশ কয়েকবার পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে তার ফিজিওথেরাপির মূল লক্ষ্যই হলো ভবিষ্যতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনা। ১৯৮৪ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়া এই নেতা ২০০৭ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত রিপাবলিকান দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
