সন্ত্রাসবাদে মদতদাতার তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদদদাতা’ তালিকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে এটি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বুধবার মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর দামেস্কসহ পুরো সিরিয়াজুড়ে জনমনে এক ধরনের সতর্ক আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
হাফেজ আল-আসাদ থেকে শুরু করে তার ছেলে বাশার আল-আসাদের শাসনামল পর্যন্ত সিরিয়া দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়ন ও গৃহযুদ্ধের কবলে ছিল। ১৯৭৯ সালে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে প্রথমবারের মতো সিরিয়াকে এই কালোতালিকায় যুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার ও নির্যাতনের অভিযোগে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আল-জাজিরার তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সিরিয়ার রপ্তানি খাতে ধস নামে এবং বাণিজ্য ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার অর্থনীতির চাকা সচল করতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। অতীতে আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে আল-শারা নিজে মার্কিন ও জাতিসংঘ কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকলেও, বর্তমানে তিনি সেই পরিচয় ঝেড়ে ফেলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে আইএসআইএল বা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে এবং আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য সিরিয়ায় বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রভাষক রব গাইস্ট পিনফোল্ডের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বড় প্রতিবন্ধকতা দূর করার মতো একটি ঘটনা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধু এই তালিকা থেকে নাম কাটা গেলেই রাতারাতি বিনিয়োগের ঢল নামবে না, কারণ সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনিক দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো এখনো উদ্বেগের বড় কারণ।
এদিকে দামেস্কের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় প্রয়োজন। শহরের কেন্দ্রস্থলে এক জুস বিক্রেতা জহেরের মতে, দীর্ঘদিনের ক্ষত একদিনে সেরে ওঠা সম্ভব নয়। তবুও দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার এই বার্তায় সিরিয়াবাসীর মনে নতুন করে স্বপ্নের বীজ বপন হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা