ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি জানিয়েছেন। তুর্কিয়েতে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে কিয়েভে ফেরার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আঙ্কারায় ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, রাজনৈতিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। এখন দ্রুত কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করাই ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাহী বিভাগের প্রতিনিধিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার নিরন্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্ববাজারে এই অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় এবং মার্কিন উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে ব্যবহারের হার বেশি হওয়ায় জেলেনস্কি দীর্ঘ সময় ধরে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগ করছিলেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই অনুমোদনের ফলে কিয়েভ নিজস্ব কারখানায় অত্যাধুনিক পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর তৈরির সুযোগ পেল।

ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানান, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে যাতে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে কিয়েভকে আর কোনো অভিযোগ করতে না হয়। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ প্যাট্রিয়ট তৈরির সক্ষমতা রাখে এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বিবেচনায় ইউক্রেনকে যোগ্য মনে করেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সেরহি বেসক্রেস্তনভ জানান, উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রযুক্তিগত নথিপত্র, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিভিন্ন সাব-কন্ট্রাক্টেড যন্ত্রাংশের দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভর করতে হবে। কিছু যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটো সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনীয় নেতার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যা অতীতে তার মন্তব্যের তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প পুনরায় জানিয়েছেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি বদ্ধপরিকর। তার মতে, গত কয়েক সপ্তাহে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%