রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বিতর্কিত ফিফা বিশ্বকাপে ফোলারিন ব্যালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ

ফোলারিণ বালোগুনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকলেও, গত বুধবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন এই মার্কিন স্ট্রাইকার। নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং বেলজিয়াম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মোনাকোর হয়ে খেলা বালোগুন চলতি বিশ্বকাপে তিন গোল করে নিজের দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। অথচ রাজনৈতিক চাপে ফিফা তাদের নিজস্ব নিয়ম উপেক্ষা করায় ফুটবলের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবেই ফিফা এমন বিতর্ক আর কেলেঙ্কারির সঙ্গে পরিচিত। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনেই বিতর্কিত ঘটনার জন্ম হয়েছিল। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের ম্যাচে রেফারি গিলবার্তো দে আলমেইদা রেগো নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট আগেই বাঁশি বাজিয়ে খেলা শেষ করে দিয়েছিলেন, যা নিয়ে মাঠে পুলিশ পর্যন্ত নামাতে হয়েছিল।
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের তারকা গারিঞ্চার লাল কার্ডের ঘটনাটি বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে বড় মিল রাখে। সেমিফাইনালে চিলির বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পরও চিলির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোর্হে আলেসান্দ্রির হস্তক্ষেপে গারিঞ্চা ফাইনালে খেলার অনুমতি পেয়েছিলেন। সেটিই ছিল দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ের পরবর্তী ম্যাচে খেলার একমাত্র উদাহরণ। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এমন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দীর্ঘদিনের পুরনো ইতিহাস।
১৯৭৩ সালে চিলির সামরিক শাসক জেনারেল অগাস্তো পিনোশে এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার জেনারেল হোর্হে ভিদেলার আমলে ফিফার বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ফুটবলের গায়ে কালিমালিপ্ত করেছে। ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয় এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ফিফা কখনোই এই অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় আনেনি।
মাঠের ভেতরে ফিফার নিষ্ক্রিয়তাও অনেক সময় চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার সেই কুখ্যাত ম্যাচের কথা ফুটবলপ্রেমীরা আজও ভোলেনি। আলজেরিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে দুই ইউরোপীয় দল একে অপরের বিপক্ষে কার্যত কোনো লড়াই না করে পুরো সময় বল আদান-প্রদান করেছিল। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে রেফারি গ্রাহাম পোলের তিনটি হলুদ কার্ড দেখানোর ভুলটিও ফিফার প্রশাসনিক ব্যর্থতার বড় প্রমাণ। দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও নিয়মনীতি আর রাজনৈতিক প্রভাবের গোলকধাঁধা থেকে ফিফা আজও বেরিয়ে আসতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
