আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। ইরানবিরোধী যুদ্ধের সূচনা হওয়ার পর এটি হবে নেতানিয়াহুর প্রথম ওয়াশিংটন সফর। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আঙ্কারায় ৭ ও ৮ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার পরপরই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর অনুরোধেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবি করা হলেও, বর্তমানে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দৃশ্যমান হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে ইসরায়েল। এছাড়া লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প, যা কূটনৈতিক সমঝোতার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব বিতর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং নেতানিয়াহু জানেন কে এখন মূল ক্ষমতার অধিকারী।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। ২০১৬ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী, দশ বছরে ইসরায়েলকে ৩৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। বর্তমানে ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘটনায় ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও সংকটের মুখে পড়েছে।
কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির গত ২৪ জুনের জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার ইরানবিরোধী যুদ্ধকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন এবং ৪৮ শতাংশ মনে করেন ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন মাত্রাতিরিক্ত। রিপাবলিকান পার্টির আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনমত ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
আট এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে জুন মাসে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করতে হিমশিম খাচ্ছে উভয় পক্ষ। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন হামলা সমঝোতার শর্তাবলীকে বারংবার লঙ্ঘন করেছে। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলোচনায় নেতানিয়াহুকে আক্রমণাত্মক ভাষায় তিরস্কার করলেও, নীতিগতভাবে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।
যদি আগামী সপ্তাহে এই সফর চূড়ান্ত হয়, তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি হবে নেতানিয়াহুর সপ্তম যুক্তরাষ্ট্র সফর। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এতবার ওয়াশিংটন সফর করেননি। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত—আইসিসি কর্তৃক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই ওই আদালতের এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দেয় না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা