উত্তর দারফুরে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

সুদানের উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশির শহরে ভয়াবহ নৃসংশতা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শহরটিতে চালানো আরএসএফ-এর অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সংস্থাটির তথ্য মতে, এই সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ এবং যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আরএসএফ যোদ্ধারা আল-ফাশির ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় মূলত জাগ্রাওয়া জাতিগোষ্ঠীর বসবাসের গ্রামগুলোতে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়েছে। জবরদস্তিমূলক স্থানান্তর, দাসত্ব, ধর্ষণ এবং পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিতে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২৪৬ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যার মধ্যে ২০৮ জনই ছিল সংঘাতের সরাসরি শিকার। বেঁচে যাওয়া এক ৫৮ বছর বয়সী নারী জানান, তিনি শহরটিতে প্রায় ১ হাজার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, যার মধ্যে অনেক শিশুই ছিল।

গত ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আল-ফাশিরে আরএসএফ তাদের চূড়ান্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ২০১৪ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অবরোধের ফলে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শহরের বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে পশু খাদ্য হিসেবে পরিচিত চিনা বাদামের তেলের উপজাত ‘আমবাজ’ খেয়ে টিকে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই গৃহযুদ্ধে কয়েক দশ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই পরিস্থিতিকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বিশ্ব বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে অবিলম্বে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী মোতায়েনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববাসীর নীরবতা মানবিকতার জন্য এক বড় কলঙ্ক হয়ে থাকবে, যদি এখনই সুদানের এই অবর্ণনীয় দুর্দশা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%