বিশ্বকাপের নকআউটে কেপ ভার্দে রূপকথার অগ্রযাত্রা সামনে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা

মাত্র ৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিয়েছে। উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে নবাগত এই দেশটি নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়ামোদীদের চমকে দিয়েছে। প্রতিযোগিতার ৯৬ বছরের ইতিহাসে নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।
দীর্ঘদিন ধরে কেপ ভার্দে তার স্বচ্ছ জলরাশি এবং ধবধবে সাদা বালুকাময় সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার ফুটবল মাঠে নিজেদের জাত চিনিয়ে তারা বিশ্বের নজরে এসেছে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ড্র করে তিন পয়েন্ট নিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি। এই অসাধ্য সাধনের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, যেখানে মূলত প্রবাসী ফুটবলারদের ওপর ভরসা রেখেছে দলটি।
চলতি বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর তাদের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। তিন ম্যাচে দুইবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে সাতটি সেভ করে তিনি রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকা বনে গেছেন। বুধবার পর্যন্ত তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৫ লক্ষ থেকে লাফিয়ে ১৭.৪ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, যা টম ব্র্যাডি বা ভিক্টর ওয়ামবানিয়ামার মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদদেরও ছাড়িয়ে গেছে।
আগামী শুক্রবার মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াইয়ে পরিণত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ১০টায় শুরু হবে। ‘ব্লু শার্কস’ বা নীল হাঙর ডাকনামে পরিচিত দলটি এর আগে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে চারবার অংশ নিয়েছিল, যেখানে তাদের সেরা সাফল্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ নিবদ্ধ সেই লড়াইয়ে, যেখানে ছোট্ট দেশটি বড় কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
