AdvertisementAdvertisement

ইউক্রেনের আল্টিমেটামের মুখে বেলারুশে রুশ ড্রোন রিলে স্টেশন অকার্যকর করল লুকাশেঙ্কো

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর আল্টিমেটামের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলার সহায়তায় সীমান্তে বসানো চারটি রিলে স্টেশন অকার্যকর করে দিয়েছে মিনস্ক। ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রুশ ড্রোনের নির্ভুল হামলা নিশ্চিত করতে এই স্টেশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এক সপ্তাহের মধ্যে স্টেশনগুলো সরিয়ে না নিলে কিয়েভ নিজেই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ইউক্রেন ও বেলারুশের মধ্যকার সীমান্ত প্রায় ১ হাজার ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই দুর্গম বনাঞ্চল ও জলাভূমিতে বসানো স্টেশনগুলো মূলত মোবাইল যোগাযোগ টাওয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রে প্রনিন জানান, এই রিলেগুলো রুশ ড্রোনের সংকেত শক্তিশালী করে এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করছিল। জেলেনস্কির দাবি, লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার এই যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে লুকাশেঙ্কো চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিলেন। তবে গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, রিলে স্টেশনগুলোর কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। জেলেনস্কি জানান, স্টেশনগুলো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও, এগুলো বর্তমানে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। বেলারুশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার থেকে ওই সীমান্ত দিয়ে কোনো রুশ ড্রোন প্রবেশ করেনি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান সামরিক আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। কিয়েভ-ভিত্তিক বিশ্লেষক ইহার তিশকেভিচ মনে করেন, জেলেনস্কির এই কৌশল বেলারুশের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে লুকাশেঙ্কো নিজেকে কিছুটা বিচ্ছিন্নতা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন। তবে এই পদক্ষেপের ফলে মস্কোর সঙ্গে মিনস্কের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির এই আল্টিমেটামকে ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনার পরপরই লুকাশেঙ্কো মস্কো সফর করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এই সাক্ষাতের বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার কাছে পর্যাপ্ত সামরিক সম্পদ না থাকায় লুকাশেঙ্কোর এই পিছু হটা মস্কোর জন্য এক ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থান প্রমান করে যে, কিয়েভ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%