ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পুতিনের

ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে তীব্র চাপের মুখে পড়া কিয়েভই এ ধরনের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে মস্কো যুদ্ধের এই ধারা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় শাসনের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো আপস বা সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা নেই।
পুতিনের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর জনবলের সংকট ও রাশিয়ার পাল্টা আক্রমণে সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে বাঁচতেই কিয়েভ এই প্রস্তাব সামনে এনেছিল। পুতিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলা যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম নয়। রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখা এবং কিয়েভকে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়া মস্কোর বর্তমান যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।
এদিকে, পুতিনের এই বার্তার মধ্যেই ইউক্রেন তাদের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, রুশ সীমান্তের গভীরে অবস্থিত স্লাভিয়ানস্ক এবং ইয়ারোস্লাভল তেল শোধনাগারে সফল হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার স্থানীয় গভর্নরদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অন্তত একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া ও খারকিভ শহরে রাশিয়ার হামলায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণাত্মক অভিযান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা অন্তত ১১৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব হামলা সত্ত্বেও পুতিন দাবি করেছেন যে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোই এখন তাদের অগ্রাধিকার এবং জ্বালানি খাতে এসব হামলা পর্যটন মৌসুমসহ সাধারণ জনজীবনে প্রভাব ফেললেও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ অবসানে আন্তর্জাতিক মহলের নানা তৎপরতা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিলেও পুতিন তা নাকচ করে দিয়েছেন। রাশিয়ার দাবি, ২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই কেবল আলোচনা হতে পারে, যার মধ্যে ইউক্রেনের ভূখণ্ড হস্তান্তরের মতো কঠিন শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি আপাতত যুদ্ধ থামানোর পরিবর্তে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী। বিশেষ করে ন্যাটো জোটের সম্পৃক্ততা এবং ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের ব্যবহার মস্কোকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য বিশ্বনেতাদের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ফলাফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা