লেবার পার্টির নেতৃত্বে বার্নহ্যাম ইসরায়েল নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণার পর দলটির নতুন নেতৃত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা চলছে। পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপের মুখে স্টারমারের বিদায়ের পর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম এখন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া বার্নহাম এমন এক সময়ে দলের হাল ধরার অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন লেবার পার্টি ভোটারদের আস্থা হারিয়ে নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্নহাম নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে ইসরায়েল ও গাজা ইস্যুতে দলের বর্তমান অবস্থানে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। লন্ডন কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির প্রভাষক প্যাট্রিক ডায়মন্ডের মতে, বার্নহাম হয়তো সংঘাতের সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানাবেন, তবে তিনি বর্তমান নীতি থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটাতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন। বিশেষ করে গাজা ইস্যুতে দলের ভোটব্যাংক ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তাকে প্রতিনিয়ত সতর্ক অবস্থানে রাখবে।

লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নীতি নিয়ে অসন্তোষের চিত্রটি বেশ স্পষ্ট। সেভ দ্য চিলড্রেন ইউকে এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডসহ একাধিক সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টির ৬০ শতাংশেরও বেশি সদস্য সরকারের বর্তমান ইসরায়েল নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। এদের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। গাজার চলমান পরিস্থিতিকে গ্রিন পার্টির মতো বামপন্থি দলগুলো ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করলেও, বার্নহাম এখন পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি।

এসওএএস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের পাবলিক আইনের প্রভাষক নিমার সুলতানির দাবি, বার্নহামের রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণত স্টারমারের নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে আওয়াজ তুলে কিছুটা ভিন্ন পথে হাঁটলেও, সামগ্রিকভাবে তিনি লেবার পার্টির প্রচলিত নীতি থেকে খুব একটা সরে আসবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুলতানির মতে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন নয়, বরং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে তার মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

অ্যান্ডি বার্নহামের রাজনৈতিক অতীত বেশ জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল। ২০১২ সালে ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করলেও ২০১৫ সালে তিনি লেবার ফ্রেন্ডস অফ ইসরায়েলের সাথে যুক্ত হন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসরায়েলকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিলেও, সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়টিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকার করতে তিনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

অভিবাসন নীতি এবং ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনীতি নিয়েও বার্নহাম খুব একটা চমকপ্রদ নতুনত্ব আনার সম্ভাবনা কম দেখাচ্ছেন। তিনি গৃহসচিব শাবানা মাহমুদকে তার পদে বহাল রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তার আগের রক্ষণশীল অভিবাসন নীতি বজায় রাখারই ইঙ্গিত বহন করে। সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বার্নহামের নেতৃত্ব ব্রিটিশ রাজনীতিতে কোনো বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের বদলে পুরনো পথেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, যা মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থিদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%