সোমালীয় নাগরিকদের প্রত্যাবাসন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপরীতে যাচাইয়ের দাবি প্রেসিডেন্টের

অবৈধভাবে ইউরোপে বসবাসকারী সোমালি নাগরিকদের ফেরত নেওয়া নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর কঠোর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয়প্রত্যাশী ও অবৈধভাবে অবস্থানকারী সোমালি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মোগাদিশু পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে না—এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই বিধিনিষেধের অনুমোদন দেয়।

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বরাবরই আগ্রহী, তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি তারা সত্যিকার অর্থেই সোমালি নাগরিক হন, তবে আমরা তাদের সাদরে গ্রহণ করব। কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে অন্যদের গ্রহণ করা সম্ভব নয় এবং আমরা ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারি।

ইউরোপীয় কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সোমালিয়ার সহযোগিতা সন্তোষজনক নয়। এই নতুন বিধিনিষেধের আওতায় এখন থেকে সোমালি নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য বিদ্যমান ফি মওকুফের সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে এর চেয়েও বড় খেসারত দিতে হতে পারে।

দীর্ঘ কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধ ও আল-শাবাবের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তাণ্ডবে সোমালিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত। রাষ্ট্রকাঠামোর এই ভঙ্গুর অবস্থার কারণে জীবন বাঁচাতে দেশটির বহু তরুণ লিবিয়া হয়ে ইউরোপের পথে বিপজ্জনক যাত্রা করে, যেখানে তারা প্রায়শই আটক ও নির্যাতনের শিকার হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা ব্যবহারের মাধ্যমে মোগাদিশুর ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চায়। এর আগে ২০২১ সালে গাম্বিয়া এবং ২০২৪ সালে ইথিওপিয়ার ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ব্রাসেলস, যার মধ্যে ইথিওপিয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার উন্নতির প্রেক্ষিতে মে মাসে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ভিসা সংক্রান্ত এই জটিলতা সোমালি ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন কোনো সংকট নয়। এর আগে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর ব্যাপকভিত্তিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সম্প্রতি আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারায় বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন থেকে বঞ্চিত হন। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে তাদের অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবে সীমান্ত বহির্ভূত অঞ্চলে ফেরত কেন্দ্র নির্মাণ এবং দ্রুত বিতাড়ন প্রক্রিয়া জোরদার করার কৌশল গ্রহণ করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%