তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্য কাঠামোগত সংকটে জনজীবন স্থবির

যুক্তরাজ্যে চরম তাপদাহ জনজীবনকে অচল করে দিয়েছে। লন্ডনের আবহাওয়া সাধারণত শীতল ও বৃষ্টিবহুল হলেও এবার সেখানে তাপমাত্রা ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড গড়েছে। তীব্র এই গরমে লন্ডনের অনেক এলাকা কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন যে, লন্ডন এখন আর শুধু গরম নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই আগুনের কুণ্ডলীর মতো ফুটছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভাও বাতিল করতে হয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার মোকাবিলায় দেশটির অবকাঠামো এবং জীবনযাত্রার ধরন যে মোটেও প্রস্তুত নয়, তা গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে। শীতপ্রধান দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ঘরবাড়িগুলো মূলত তাপ ধরে রাখার উপযোগী করে তৈরি, যা এখনকার ভয়াবহ গরমে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিবহন ব্যবস্থায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। প্রচণ্ড তাপে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকিতে বুধবার একদিনেই দুই হাজার ৬০০টি ট্রেন চলাচল বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাপজনিত কারণে যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা সাধারণ সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি হিসাবে এক হাজারের বেশি স্কুল ও নার্সারি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ব্যবসায়িক খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। এমএইচএ-এর বিশ্লেষক রাজীব শৌনক জানান, অতীতে গরমের সময় খাদ্য ও পানীয়ের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানের তীব্র তাপদাহ খুচরা ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বাজারে; গত বছরের তুলনায় এসব যন্ত্রের বিক্রি ৪২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কমিটির তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের ৯০ শতাংশ বাড়ি ভবিষ্যতে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করার মতো করে নির্মিত নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বয়স্ক, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং ভাড়াটিয়ারা এই তাপদাহের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যে প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, এবারও সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
গ্রিনপিস এবং পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে একটি কার্যকর ‘চরম তাপদাহ পরিকল্পনা’ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, শুধু জল পান করার মতো সাধারণ পরামর্শ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। স্কুল, হাসপাতাল ও বাড়িঘরকে তাপসহনশীল করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
