যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির নিচে অপরিশোধিত তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অস্থিরতা কমে আসায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বৈশ্বিক বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার গ্রিনউইচ মান সময় ০৬:৩৯ মিনিট নাগাদ আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১.০৬ ডলার বা ১.৪৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২.৬৮ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭৬ সেন্ট বা ১.০৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৯.৫৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে। গত বুধবার সরবরাহের দুশ্চিন্তা কিছুটা শিথিল হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলারের বেশি হ্রাস পায় এবং ডব্লিউটিআইয়ের দামও প্রায় ৩ ডলার কমে স্থির হয়েছিল।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বর্তমানে তেল সরবরাহ প্রায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই পথ দিয়ে কমপক্ষে ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, মাইন অপসারণের প্রয়োজনীয়তা থাকায় প্রণালীটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় পাওয়ার পর ইরান বিশ্ববাজারে তেল বিক্রি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা তেলের দাম হ্রাসে বাড়তি ভূমিকা রাখছে। গত সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌচলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরান সমুদ্রপথ ব্যবহারের জন্য বাড়তি ফি আরোপের কথা জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে দাবি করে কোনো প্রকার টোল আদায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ট্যাঙ্কারের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য সাময়িক বিকল্প পথ খুলে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই দেশের এই বৈরী অবস্থানের মধ্যেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা থিতিয়ে এলেও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে রয়ে গেছে উদ্বেগ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%