ব্রিটিশ প্রমোদতরীর কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজের সতর্কবার্তা মূলক গুলিবর্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ স্টারমারের

ব্রিটেনের জলসীমার অদূরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি প্রমোদতরীকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এই ঘটনাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ এবং ‘বেপরোয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং এর সঙ্গে সপ্তাহান্তে রুশ ছায়া নৌবহরের একটি জাহাজ আটকের কোনো যোগসূত্র নেই।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, অ্যাডমিরাল গ্রিগোরাভিচ নামক ফ্রিগেটটির গতিপথের সঙ্গে প্রমোদতরী ‘ব্রাইট ফিউচার’-এর সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। আইল অফ উইট থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭ কিলোমিটার দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে রুশ জাহাজটি বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করার পর সতর্কতামূলক এই গুলিবর্ষণ করে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো প্রাণহানির উদ্দেশ্যে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রমোদতরীতে থাকা ৭০ বছর বয়সী অ্যালান কেলভি এবং তার স্ত্রী জেন কেলভি রাশিয়ার এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি রুশ কর্তৃপক্ষের বর্ণনাকে স্রেফ ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, তাদের নৌযানটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। এ ঘটনায় রয়্যাল নেভির টহল জাহাজ এইচএমএস মার্সি রুশ ফ্রিগেটটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল।
ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী আলোচনার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার এই আগ্রাসী আচরণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পেছনে রহস্যময় কোনো উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ আপাতত নেই, তবে রাশিয়ার দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড যে মহাদেশটিতে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে, তা অনস্বীকার্য।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ‘ছায়া নৌবহর’-এর জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করা হয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন কঠোর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মধ্যেই প্রমোদতরী নিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হলো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
