লেবাননের নাবাতাইহ গভর্নরেটে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। মায়ফাদুন এলাকায় দুটি এবং শোকিন গ্রামে আরও একটি গাড়িতে চালানো এই হামলায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হওয়ার পরও এমন সামরিক অভিযান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আবারও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, প্রস্তাবিত ওই চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবাননের দক্ষিণ অংশে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি এই চুক্তির চরম লঙ্ঘন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান যুদ্ধে দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই সংঘাতের পূর্ণ সমাপ্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ ও দখলদারিত্ব অবসাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে তাদের দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহকে আশ্বস্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় তারা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করবে।
উল্লেখ্য যে, ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই দীর্ঘ সংঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত ১১ হাজার ৮৫১ জন মানুষ।