ইরানে যুদ্ধ ও অবরোধের জোড়া সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে ইরানি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের আতঙ্ক আর বিপর্যস্ত অর্থনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ, অন্যদিকে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান ইরানের সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দিনের শুরুতে এবং ভোররাতে রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস লেবাননের বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এই পাল্টা আঘাত আসে। ইসরায়েলি বাহিনী কেবল তেহরান নয়, বরং বন্দর-এ-মাহশাহর শহরের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় ওয়াশিংটন অবশ্যই কঠোর জবাব দেবে।

এই সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে ইরানের বাজারে, যেখানে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তেহরানের এক ক্যাফে মালিক জানিয়েছেন, তিন সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে তাকে কফির জন্য প্রায় ২.৫ গুণ বেশি দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা চার বছর আগের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্যমতে, মে মাসের শেষ নাগাদ ইরানে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৮৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ১৩০ শতাংশে। ভোজ্য তেল ও ডিমের মতো নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

ইরানের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বর্তমান বিরোধ কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথে নেই। তেহরানের এক জিম প্রশিক্ষক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সাময়িক কোনো সমঝোতা হলেও তা হয়তো পরিস্থিতি কয়েক মাসের জন্য কেবল স্থগিত রাখবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাবে না। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বিক্রেতারাও বলছেন, পণ্যের পাইকারি দাম যে গতিতে বাড়ছে, খুচরা বিক্রয়মূল্য তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না, ফলে ব্যবসা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে ইরানি কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল সেন্সরশিপ নিয়েও জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তুঙ্গে। রবিবার রাতে কেরমানশাহ থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইন্টারনেটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় অনেকে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। যদিও পূর্ণাঙ্গ ব্ল্যাকআউট হয়নি, তবে ইন্টারনেটের গতি ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে দীর্ঘ তিন মাসের প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পর ইন্টারনেট আংশিক সচল হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা যে কোনো সময় পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আতঙ্ক কাজ করছে সাধারণের মনে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%