আর্মেনিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন: পশ্চিমা ঘেঁষা পাশিনিয়ানের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনমত যাচাই

আর্মেনিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে আজ রবিবার ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটির বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিবেশী আজারবাইজানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির উদ্যোগের ওপর এই নির্বাচনকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও তাঁর ক্ষমতাসীন দল ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট’ রাশিয়া থেকে বেরিয়ে ইউরোপের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার যে নীতি গ্রহণ করেছে, তাকে আরও জোরালো সমর্থন দিতেই মূলত এই ভোটাভুটি।
আর্মেনপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রবিবার সকালে ভোট দেওয়ার পর পাশিনিয়ান বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথ ধরে আর্মেনিয়া তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করবে। রাশিয়া ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতির গুঞ্জন উড়িয়ে তিনি জানান, মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাশিনিয়ানের পশ্চিমাঘেঁষা নীতি রাশিয়ার অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনের প্রচারণায় নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নগুলোই বড় হয়ে উঠেছে। পাশিনিয়ানের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছে বেশ কয়েকটি দল, যারা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে সরব। বিশেষ করে সামভেল কারাপেত্যানের নেতৃত্বাধীন ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ দলের মতো রাশিয়াপন্থী শক্তিগুলো অর্থনীতির সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নির্বাচনে মোট ১৭টি রাজনৈতিক দল ও দুটি জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পার্লামেন্টের ১০১টি আসনের জন্য লড়ছেন প্রার্থীরা। নিয়ম অনুযায়ী, একক দলকে কমপক্ষে ৪ শতাংশ এবং জোটের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ ভোট পেতে হবে পার্লামেন্টে আসন নিশ্চিত করতে। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।
আজারবাইজানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়টি এই নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান একে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা তাঁকে আজারবাইজানের কাছে নতি স্বীকারের দায়ে অভিযুক্ত করছেন। বিশেষ করে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকে অনেক নাগরিক বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা বর্তমানে একটি জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরির চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে পাশিনিয়ান তাঁর গৃহীত নীতিগুলোর পক্ষে নতুন ম্যান্ডেট প্রত্যাশা করছেন, যা আগামী দিনে আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও বৈদেশিক নীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা