AdvertisementAdvertisement

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সেনা কর্মকর্তা নিহত পাকিস্তানে আকস্মিক সফরে সেনাপ্রধান রোদলফ হাইকাল

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসনের মধ্যেই এক আকস্মিক সফরে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান রুডলফ হাইকাল। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন লেবানিজ সেনা নিহতের ঘটনায় যখন দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ঠিক তখনই এই সফরের খবর সামনে এলো। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা এই সফরের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত শনিবার খারদালি-নাবাতিয়েহ সড়কে লেবাননের সামরিক যানের ওপর ইসরায়েলি হামলায় এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, এক ক্যাপ্টেন ও এক সৈনিক নিহত হন। রোববার তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই ঘটনাটি তদন্তের দাবি করলেও, দেশটিতে মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গত ১৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে হিজবুল্লাহও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি ও লেবানিজ প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় তিন শিশু ও এক নারীসহ আরও ২২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে শাহাবিয়েহ শহরে ড্রোন হামলায় আরও দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবানন এবং পশ্চিম বেকা উপত্যকার বিভিন্ন শহরেও রাতভর ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর জবাবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইওহমোর আল-শাকিক এলাকায় বিউফোর্ট দুর্গের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থানে রকেট, আর্টিলারি ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড এখন গাজার যুদ্ধের আদলে পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং উদ্ধারকারী কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে সেখানে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করা হয়েছে, যাকে বিশ্লেষকরা ‘গাজাফিকেশন’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

লেবানিজ পার্লামেন্টের সদস্য নাজাত আউন সালিবা বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামরিক শক্তির ভারসাম্যহীনতার কারণে লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এক অসম অবস্থানে রয়েছে। হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলাকে শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার একটি চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ সালাম একে লেবাননের ওপর জঘন্য আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরান লেবাননে যুদ্ধবিরতিকে প্রধান শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%