ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় নিহত ৪ আহত ২৮

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ কেঁপে উঠেছে। রাশিয়ার মস্কো-নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ডিপো ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রে চালানো এই বিধ্বংসী হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রবিবার গভীর রাতে তারা ইউক্রেনের ২৩৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

ক্রিমিয়ার রুশ-নিযুক্ত নেতা সের্গেই আকসিওনভ জানিয়েছেন, কের্চ শহরের জ্বালানি ডিপো এবং ক্রিমিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত তেল পরিবহন স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ড্রোন হামলার পরপরই কের্চ এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলের সংযোগকারী সেতুটি নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ ঘোষণা করে রুশ কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর তথ্যমতে, হামলায় তেল টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। ক্রাসনোদার অঞ্চলে পৃথক একটি ড্রোন হামলায় একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে থাকা একজন নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপদ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।

সেভাস্তোপোলের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল রেশন বাতিল করা হয়েছে এবং এখন থেকে তা কেবল সরকারি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। এদিকে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে এই অস্থিরতার কারণে পর্যটকদের আগমনের হার ব্যাপকভাবে কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়া দখল করার পর থেকে অঞ্চলটিকে সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করেছে মস্কো, যা বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%